শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক ,
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, ছাত্রশিবিরকে যাঁরা একসময় প্রতিপক্ষ ভেবে বিরোধিতা করেছিলেন, তারা আজ ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে গেছেন। কেউ নিষিদ্ধ হয়েছেন, কেউ হারিয়েছেন প্রভাব। কিন্তু এখনও একটি গোষ্ঠী পুরনো প্ররোচনায় পড়ে শিবিরকে ট্যাগ দিতে ব্যস্ত। আমরা তাদের জন্যই দোয়া করি— যেন তারা একদিন সত্যকে বুঝতে পারে।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ শাখা আয়োজিত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ‘নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, তায়েফের ময়দানে নবী করিম (সা.)-কে অপমান করা হয়েছিল, শিশুরাও পাথর ছুড়েছিল তাঁর দিকে। অথচ তিনি প্রতিশোধ নেননি; বরং দয়া ও সহনশীলতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। সেই শিক্ষা থেকেই ছাত্রশিবির শান্তি ও ধৈর্যের পথে অটল।
নারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসলাম আগমনের আগে নারীদের অবস্থা ছিল করুণ, কন্যা সন্তান জন্মালে কবর দেওয়া হতো। ইসলাম এসে সেই নারীকেই মর্যাদার শিখরে তুলেছে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘মা সর্বোচ্চ সম্মান পাবেন।’ ছাত্রশিবিরও এই ইসলামী মূল্যবোধ ধারণ করে নারীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণে বিশ্বাসী।
ভারতকে ইঙ্গিত করে শিবির সভাপতি বলেন, অতীতে পূজার সময় রাজনৈতিকভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে সে ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়নি। বিদেশি কিছু প্রচারণা আমাদের সম্প্রীতি বিনষ্টকারী হিসেবে দেখাতে চায়, অথচ বাস্তবে তারা নিজেরাই সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষে ডুবে আছে।
তিনি আরও বলেন, যারা ১৫ বছর ধরে দেশপ্রেমের বুলি আওড়াচ্ছে, তারাই দেশের কোটি কোটি টাকা লুট করেছে, গুম-খুনের রাজনীতি চালিয়েছে। ছাত্রশিবির এমন মিথ্যা দেশপ্রেম চায় না— আমরা এমন তরুণ চাই, যারা অন্যায়-জুলুমমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জাহিদুল ইসলাম বলেন, শিবিরে যোগ দেওয়া কারও জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তবে সংগঠনকে বুঝতে হলে পড়াশোনা, চিন্তা ও অনুসন্ধান প্রয়োজন। শিক্ষক-অভিভাবকদের মতোই নিজেরাও দায়িত্বশীল হতে হবে। আমরা চাই, তোমরা প্রকৃত দেশপ্রেমিক হয়ে দেশ গড়ায় অংশ নাও।
তিনি বলেন, ছাত্রশিবির স্বপ্ন দেখায়, লক্ষ্য নির্ধারণ করে এবং বাস্তবায়নের পথ দেখায়। সেই স্বপ্ন বাস্তব রূপ দিতে যা প্রয়োজন— তা করতে সংগঠন তরুণদের উৎসাহ দেয়।
নারী বিদ্বেষের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা। ছাত্রশিবির ইসলামের আলোকে নারী অধিকার রক্ষায় কাজ করছে, সমাজের সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের কল্যাণেও ভূমিকা রাখছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি রফিকুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি মাসুদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাশেম, শিবিরের কেন্দ্রীয় স্কুল কার্যক্রম সম্পাদক নোমান হোসেন নয়ন, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ওমর ফারুক, বুয়েট শিক্ষার্থী ইরফান হাসান সাকিব, শহর শিবির সভাপতি আল মামুন, সাবেক দাওয়া সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সেক্রেটারি মেহেদী হাসান, শিক্ষার্থী শানজিন নাহার শুভা ও তাসনিম আলমসহ অনেকে।